মহামারীতে বেকার হয়ে ঢাকা ছাড়ছে নিম্ন আয়ের মানুষ-
করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত
সারা বিশ্ব। দেশে দিন দিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। বিশ্ব অর্থনীতির
ভঙ্গুর অবস্থার ধাক্কা লেগেছে বাংলাদেশেও। কাজের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে বহু ছোটখাট
শিল্প ও গার্মেন্টস কারখানা। যার ফলে কর্মহীন হয়ে পড়েছে অনেক সাধারন মানুষ ও শ্রমিক।
তাছাড়া ব্যয় কমাতে অনেক
প্রতিষ্ঠান তাদের শ্রমিক ছাটাই সহ বেতন
ভাতাও কমিয়ে দিয়েছে। এতে রাজধানীতে বাড়ি ভাড়া দিয়ে থাকতে না পেরে অনেক পরিবার ঢাকা
ছেড়ে গ্রামে ফিরতে। বাধ্য হচ্ছেন।
জীবনের ভাগ্য বিড়ম্বিত এসকল ভুক্তভোগীর অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা
যায়, সবার
গ্রামে ফিরে যাওয়ার কারণ মহামারী করোনা।
এখন নিম্ন আয়ের মানুষের কাজ পুরোটাই বন্ধ। প্রতিমাসে বেশ টাকা বাড়ি
ভাড়া দিতে হয়। কিন্তু এখন সেই পরিমাণ অর্থ উপার্জন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে গেছে। তাই
সকলে পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। গ্রামে থাকলে তাদের প্রতিমাসে বাড়ি
ভাড়ার টাকা নিয়ে অন্তত দুশ্চিন্তা করতে হবে না।
সারা দেশসহ ঢাকায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ২ হাজার ৩৭১ জনের সাক্ষাৎকার নিয়ে ব্র্যাক মে মাসে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। এতে দেখা যায় যে, ৩৬ শতাংশ লোক কাজের সুযোগ হারিয়েছেন। ৩ শতাংশ লোক চাকরি থাকলেও বেতন পায়নি। এবং দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে যারা কাজ করে, তাদের ৬২ ভাগই কাজের সুযোগ হারিয়েছে। করোনার কারণে ১০টি জেলার মানুষের আয় কমে গেছে। ঢাকা জেলারমানুষের আয় কমেছে প্রায়ই ৬০ ভাগ।
এদিকে বছরের মাঝামাঝি ঢাকা
ছাড়ায় তাদের সন্তানদের পড়ালেখাও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। গ্রামে ফিরে কোনো
বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে গেলেও অন্তত আগামী বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ঢাকায় বেড়ে
ওঠা এসব বাচ্চারা গ্রামের পরিবেশে কতটুকু মানিয়ে নিতে পারবে, সেটাও চিন্তায় ফেলেছে তাদের।